স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। শুরুতে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজ দিয়ে যাত্রা শুরু করছে। একটির দাম মাসে ৬ হাজার টাকা, আরেকটি ৪ হাজার ২০০। এছাড়া স্টারলিংকের সেটআপ যন্ত্রপাতির জন্য এককালীন খরচ হবে ৪৭ হাজার টাকা। বাংলাদেশের গ্রাহকরা গতকাল থেকেই স্টারলিংক প্যাকেজের জন্য অর্ডার করতে পারবেন।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গতকাল রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে স্টারলিংকের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে স্টারলিংকের দাম সবচেয়ে কম। শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডের চেয়েও কম। স্টারলিংকের প্রস্তাব ৭ হাজার টাকার বেশি ছিল।’
তিনি বলেন, ‘স্টারলিংকের সেটআপ যন্ত্রপাতির জন্য এককালীন খরচ হবে ৪৭ হাজার টাকা। এছাড়া মাসে স্টারলিংক রেসিডেন্সের খরচ ৬ হাজার এবং রেসিডেন্স লাইটের খরচ ৪ হাজার ২০০ টাকা। এরপর দাম আর সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে না। বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটা ডিভাইস থেকে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ মিটার পর্যন্ত ইন্টারনেট পাওয়া যাবে। গ্রামে এটা ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত হবে। এক ব্যক্তি কিনে বা একাধিক ব্যক্তি সমিতি আকারে কিনে সেটা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারবেন।
স্টারলিংক চালু নিয়ে সরকার অস্বাভাবিকভাবে তড়িঘড়ি করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ বলেন, কোনো অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি হয়নি। জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বিনিয়োগ ক্ষতি হয়। তখন উচ্চগতি ও মানের একটি টেকসই বিকল্প সরকার খুঁজছিল। সেখান থেকে স্টারলিংক এসেছে। সরকার বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব এবং স্টারলিংক এলে অন্যরাও আসবে।
স্টারলিংকের ইন্টারনেটের কারণে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হবে না জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘এজন্য আমরা দুটি নিরাপত্তার বিষয় রেখেছি। একটি হচ্ছে স্টারলিংককে লোকাল গেটওয়ে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ তাদের স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করতে হবে এবং সেই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে গেটওয়ে হয়ে ইন্টারনেট যাবে। আমরা বলেছি, তারা চাইলে বিকল্প হিসেবে বিদেশী গেটওয়ে রাখতে পারবে, কিন্তু অ্যাকটিভ ডিভাইস মনিটর করার জন্য, সেখান থেকে রাজস্ব আয়ের জন্য এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের যারা লাইসেন্স গেটওয়ে আছে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য লোকাল গেটওয়ে ব্যবহার করতে পারবে। সেখানে এলআইসি বসাতে হবে অর্থাৎ আমাদের আইনে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যে ইন্টারসেপ্টের বিধান আছে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা থেকে সেই কমপ্লায়েন্স মানতে হবে। পাশাপাশি অননুমোদিত ডিভাইস যাতে আমাদের সীমান্তের ভেতর প্রবেশ করতে না পারে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, সেজন্য আমরা বলেছি ডিভাইসগুলোর জন্য এনওসি নিতে হবে। যেহেতু হাজার হাজার ডিভাইস আলাদা করে এনওসি দিতে গেলে প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি হবে, এজন্য গ্রুপ অব ডিভাইসকে একই এনওসির আওতায় ব্যাচ করে আনা যাবে।’